হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত হচ্ছে অনম বিশ্বাসের চলচ্চিত্র “দেবী”। “দেবী” গল্পটি লেখার পেছনের কাহিনী জানা যাক লেখকের নিজের ভাষ্যে,
“এক সন্ধ্যায় আমার বিভাগের একজন শিক্ষকের বাসায় গিয়েছি। উপলক্ষ মিলাদ কিংবা চায়ের নিমন্ত্রণ, ঠিক মনে নেই। অতিথিরা সব বিদায় নিয়েছেন, স্যার আমাকে যেতে দিচ্ছেন না। যত বারই উঠতে যাই, তিনি বলেন, আরেকটু বসো, গল্প করি। সমস্যা হচ্ছে, স্যার গল্প জানেন না। তাঁর সমস্ত কথাবার্তাই কেমিস্ট্রি নিয়ে। এই পৃথিবীতে কেমিস্ট্রি ছাড়াও যে কিছু থাকতে পারে তা তিনি সম্ভবত জানেন না। তা যাই হোক, এক সময় তিনি আমাকে বিস্মিত করে বললেন, ‘হুমায়ূন, আমি একটা অদ্ভুত ঘটনা জানি। মন দিয়ে শোনো।“ আমি কেমিস্ট্রি বিষয়ক আরেকটি গল্প শোনার জন্য মানসিকভাবে তৈরি হলাম। স্যার বললেন, -অতিপ্রাকৃত ধরনের এক গল্প। ষোল-সতেরো বছরের এক মেয়ে পদ্মায় নাইতে গেছে। হঠাৎ সে লক্ষ্য করলো কে যেন তার পা চেপে ধরেছে। সে ভয়ে চেঁচিয়ে উঠলো। তাকে নদী থেকে তোলা হলো। দেখা গেল, মুন্ডুহীন প্রায় পচা- গলা একটি শবদেহ তার পা শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে। মেয়েটিকে বাড়ি নিয়ে যাওয়া হলো সম্পূর্ণ অপ্রকৃতস্থ অবস্থায়। দীর্ঘ দিন তার চিকিৎসা চলল। মাঝে মাঝে কিছু দিন ভালো থাকে, আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। এখন মেয়েটি সম্পূর্ণ সুস্থ। অসাধারণ গল্প। সব অসাধারণ গল্পের শেষে একটি চমক থাকে। এই গল্পেও আছে। স্যার বললেন, “হুমায়ূন, মেয়েটির সঙ্গে কথা বলবে? সে আমার বাসায় আছে।“ আমি কথা বলতে চাইলাম। মেয়েটি কিছুতেই আমার সামনে আসতে রাজি হলো না।
আমি বাসায় ফিরেই এই মেয়েটিকে নিয়ে ‘দেবী’র গল্প লেখা শুরু করলাম। প্রথম বারের মতো মিসির আলি নামের এক চরিত্র এলো।“